শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চুমকি আপার পক্ষে নেত্রকোনায় ত্রান বিতরন পদ্মা সেতু উদ্ভাধন উপলক্ষে কালীগঞ্জে বিজয় র‌্যালী কালীগঞ্জে সেলাই মেশিন , কৃষকের মাঝে সার ও যুব উন্নয়নের ঋণ বিতরণ দেলদুয়ারে বিনামুল্যে সার বীজ বিতরণ কালীগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্যামনগরে শোভাযাত্রায় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ছেলে ও ছেলে বৌয়ের বিরুদ্ধে বাবা মা কে মারধোর অভিযোগ থানায় মামলা যান্ত্রিক এবং মানবিক ক্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে কালীগঞ্জে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রনয়ণ বিষয়ক কর্মশালা কালীগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ভাতা বিতরণ 

“শাহদের গাঁও বায়তুল মামুর জামে মসজিদ”

রিপোটারের নাম / ১০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

#ইতিহাস ও ঐতিহ্য#
“শাহদের গাঁও বায়তুল মামুর জামে মসজিদ”
মোগল আমলের প্রাচিন মুসলিম সভ্যতা ও স্থাপত্যের এক অনুপম দৃষ্টি নন্দিত নিদর্শন যার অবস্থান গাজীপুর জেলার কালিগন্জ উপজেলার ভাদগাতি গ্রামে।
রুট ম্যাপ : রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ৩৯ কি.মি উত্তর- পশ্চিমে , টংগী বোর্ড বাজার মোড় থেকে ডানে পূবাইল পার হয়ে পূর্ব দিকে কালিগন্জ সদর। ওখান থেকে ৪ কি.মি পাকা রাস্তা রিক্সায় যেতে হবে। বলতে হবে ভাদগাতি মিয়া বাড়ী ( এম.পি জিতু মিয়ার বাড়ী )।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ভাদগাতি মিয়া বাড়ীর তৎকালীন সময়ের প্রচন্ড প্রতাপশালী মরহুম আব্দুর রহমান ভূইয়া যিনি জন্মগ্রহন করেন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।
৮ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি তিনি নির্মান করেন তারই ওয়াকফ করা জায়গার উপর ১৮৯১ ইং সালে। প্রথমে মসজিদটি কাঠের তৈরী ছিলো উপরে টিন দিয়ে। কিন্তু কত সালে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পাকা মসজিদটি করার সময় প্রতিষ্ঠাতা কাঠের তৈরী মসজিদটি তার নিজের বাড়ীর উঠানে বাংলা ঘর বা বৈঠক খানা হিসাবে স্থানান্তর করেন।
১৮৯১ সালে মসজিদটি নির্মান করার পর উনি সিদ্ধান্ত নেন মসজিদটির মোতওয়াল্লী হবে ওনারই বংশধররা যোগ্যতা ও বয়োজ্যাষ্ঠতার ভিত্তিতে। আজ অবধি এভাবেই চলে আসছে আলহামদুলিল্লাহ।
এখন আমি তুলে ধরছি জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি মোতওয়াল্লীদের ধারাবাহিকতা :
১)মরহুম আবদুর রহমান ভূইয়া (প্রতিষ্ঠাতা মোতওয়াল্লী) ১৮৯১-১৯৩২ ইং
২)মাহমুদুর রহমান (মোতওয়াল্লী) ১৯৩২-১৯৪৯
৩)মো: আহসান উজ্জামান (“) ১৯৪৯-১৯৫৪
৪)মো:মোহসিন উজ্জামান (“)। ১৯৫৪ – ১৯৭১
৫)মো:আবুল বাশার ( “ ) ১৯৭১ – ১৯৭৪
৬)মো:আতিকুর রহমান (“) ১৯৭৪-১৯৮০)
৭)মো:মোখলেছুর রহমান (“) ১৯৮০ – ২০০১
৮)আলহাজ মো:আনিছ উজ্জামান (“ ) ২০০১-২০১৯
২০১৯ ইং সালের ১৫ ই ডিসেম্বর সর্বশেষ মোতওয়াল্লী মরহুম আলহাজ মো:আনিছ উজ্জামানের মৃত্যুর পর ফেব্রুয়ারী ২০২০ এই লেখা পর্যন্ত পরবর্তী মোতওয়াল্লী ঘোষনা হয়নি।
১৮৯১ সালে মসজিদটি নির্মানের পর তার প্রথম সংস্কার ও পুন:নির্মান করেন ৮ম মোতওয়াল্লী মরহুম মো:আনিছ উজ্জামান ( প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুর রহমানের বড় নাতি, ৩য় জেনারেশনের বয়োজ্যাষ্ঠ পুত্র সন্তান)।
মসজিদটি ছিল ৮ গম্বুজ বিশিষ্ট। তিনি আরও ৫ টি গম্বুজ যোগ করেন মূল মসজিদের ডিজাইন অক্ষুন্ন রেখে এবং পুরানো মসজিদটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। এখন এটা ১৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ যা সমগ্র গাজীপুর তথা সারা দেশে বিরল।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আগত এক কারিগর এই কঠিন ডিজাইনের গম্বুজ তৈরী করতে সম্মত হন এবং তা করে দেখান।
এই সমস্ত কাজের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন আলহাজ মো:মুর্শিদ উজ জামান ( প্রতিষ্ঠাতার ৪ র্থ জেনারেশনের বয়োজ্যাষ্ঠ পুত্র সন্তান)।
সামনে পুকুর গাছ গাছরা দিয়ে ঘেরা মসজিদটি দাড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে ১৩ টি গম্বুজ। প্রতিদিন ৫ বার ছড়িয়ে পড়ে আজানের ধ্বনি আকাশে বাতাসে। ছুটে চলে আসে চারদিক থেকে মুসুল্লিগন আশে পাশের গ্রাম থেকেও। কাঁধে কাধ মিলিয়ে সবাই প্রার্থনা করে আল্লাহর দরবারে। সবার মুখে কেমন যেনো একটা পবিত্রতার ছাপ। সে এক ভিন্ন পরিবেশ।
মসজিদের ভেতরে টেরা কোটার কাজ খচিত। শীতল একটা পরিবেশ। ৫ টা কাতারে জামাত হয় আর একসাথে ৫০০ মুসুল্লি নামাজ পড়তে পারে।আলহামদুলিল্লাহ।
প্রতিনিয়ত অনেক পর্যটক দেখতে আসে এই মসজিদটির অপরুপ সৌন্দর্য। দেখতে এসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। এক ওয়াক্ত নামাজটাও আদায় করে ফেলে।
আপনারা সময় করে আসবেন এই ঐতিহ্য বাহী মসজিদটি দেখতে।
আল্লাহর ঘর আল্লাহ ই নিয়ত পুরা করবেন। আমিন।
তথ্য সংগ্রহ : গাজীপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিস ,পূর্বপুরুষ ও নিজের দেখা।
ছবি সংগ্রহ : নিজস্ব ক্লিক ও নেট
লেখকের কথা :
আমি মো:মুর্শিদ উজ্জামান। শাহদের গাঁও বায়তুল মামুর জামে মসজিদে প্র্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুর রহমান ভুইয়ার বংশধর ৪ র্থ জেনারেশনের জ্যৈষ্ঠ পুত্র।
অত্র এলাকায় ১৩ টা গম্বুজ বিশিষ্ট মোগল ঐতিহ্যের নিদর্শন আর চোখে পড়ে না।
বিভিন্ন সময় এ মসজিদের ব্যাপারে লিখা দেখেছি বা শুনেছি যা সঠিক তথ্য নির্ভর নয়। হয়তো পূর্ন ইতিহাস না জানার কারনেই এমনটা হয়েছে।
তাই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার বংশধর হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব মনে করি মানুষকে সঠিক তথ্য সম্বলিত ইতিহাস জানানো।
এই লক্ষ্য সামনে নিয়ে কাজটি শুরু করেছিলেন আমার বাবা ৮ম মোতওয়াল্লী আলহাজ মরহুম আনিছউজ্জামান আর আমি শেষ করলাম।
দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
আল্লাহ হাফেজ।
••••••••••••••••••••••••
ফেব্রুয়ারী ২০২০


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ