বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের

রিপোটারের নাম / ২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জুন ৯, ২০২২, ০৭:৩০ পিএম

দিনাজপুর : চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৯৩৯ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ হচ্ছে না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্র জানা যায়, ২৩ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধান সংগ্রহের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। গত আমন ধান সংগ্রহ মৌসুমে ফুলবাড়ীতে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার টন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ছয় টন। এর মধ্যে ফুলবাড়ী গুদামে ২ টন এবং মাদিলাহাট গুদামে ৪ টন ছিল।

ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, বর্গা নেওয়া দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে প্রায় বিশ হাজার টাকা। তারপরও এবছর অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমে ছিল। যার কারণে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেশি দিয়ে ধান কাটতে হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য দিচ্ছে এক হাজার ৮০ টাকা। বাজারে সে ধানের দাম দিচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকা। তাহলে কেন সরকারিভাবে ধান বিক্রি করবো।

পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের আদর্শ কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, এবছর ধানের বাজারদর একটু বেশি। সরকারি গুদামে ধানের দাম কম হওয়ায় সেখানে কৃষকরা তাদের ধান দিলে তো লোকসানে পড়বেন। যেখানে লাভ পাওয়া যাবে সেখানেই ধান বিক্রি করা হবে। লোকসান দিয়ে তো ধান বিক্রি করবো না।

বারোকোনা গ্রামের কৃষক সৈয়দ সাইদুল ইসলাম রয়েল, উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষ্ণপদ, উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম ও আলাদিপুর গ্রামের তারাপদ রায়সহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, তাছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে অনেক ঝুট-ঝামেলায় পড়তে হয় তাদের নানান নিয়ম কানুনের জন্য।

সরকারি গুদামে ধানের দর কেজিপ্রতি ২৭ টাকা। কিন্তু বিভিন্ন হাটে ব্যাপারীরা ধান কিনছেন তার চেয়ে বেশি দামে। যদি হাটে সরকারি দামের চেয়ে বিক্রি করে বেশি টাকা পাওয়া যায়, তাহলে তারা কেন সরকারি গুদামে ধান দিতে যাবেন। সরকারিভাবে ধান বিক্রি করলে টাকা পেতে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। ব্যাপারীদের কাছে ধান বিক্রি করলে টাকা পাওয়া নিয়ে টেনশন করতে হয় না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাজিম মণ্ডল বলেন, এপ্রিলের ২৩ তারিখ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। এ বছরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯৩৯ টন। এ পর্যন্ত ২৯৪ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। এরমধ্যে ফুলবাড়ী গুদামে ২৮০ টন এবং মাদিলাহাট গুদামে ১৪ টন রয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ফুলবাড়ী খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ