সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন : নাগরিক দুর্ভোগ

রিপোটারের নাম / ৭৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন : নাগরিক দুর্ভোগ

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজধানী ঢাকা। বাস্তবে কাজ না হলেও বন্ধ নেই এ খাতের ব্যয়। রাজধানীর ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এক যুগে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপরও জলাবদ্ধতা কমেনি আরও বেড়েছে কয়েকগুণ।

টেকসই পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ না ঢাকা শহরের খালগুলোর দখল-ভরাট বেড়ে যাওয়ায় পানি জমাট হচ্ছে। আবার শিল্প কারখার বর্জ ও চারপাশের পানি নদ-নদী খাল ও নর্দমার পানি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ফসলের বিলে। আবার সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সর্বত্র। বাড়ির ভেতরও পানি ঢুকে পড়ছে। সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রাজধানীবাসী। বিশেষ করে রাজধানীর নিচু অঞ্চল।

অতি বৃষ্টি হলে পানি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রায় নীরব। সাম্প্রতিক ঢাকার বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে পানি সরতে সময় লাগছে তিন ঘণ্টা। ৫০ মিলিমিটার হলে লাগছে চার ঘণ্টা। ৭০ মিলিমিটার হলে লাগবে ১০ ঘণ্টা। প্রতিবছরের ভরা বর্ষার মৌসুমে ঘণ্টায় ৭০ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে করছে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো।

সর্বশেষ গত তিন বছরের ফাইলপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, খালের রুটিন সংস্কার কাজে খরচ হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। আর দুটি প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। এর আগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ২৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ২০১৩ সালে শেষ করেছে ঢাকা ওয়াসা। ঢাকার দুই সিটি ফুটপাত, ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বছরে প্রায় ১০০-১৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। আর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমেও দুই সিটির ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে অর্থ খরচ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতার কারণ হচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক মাধ্যম বন্ধ করে কৃত্রিম প্রচেষ্টা চালানো। এখনো যতটুকু সম্ভব, প্রাকৃতিক মাধ্যম, খাল ও ডোবানালাগুলোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলো দুই সিটিতে হস্তান্তরের উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক হয়েছে। এখন এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ নেটওয়ার্ক তৈরি, খালের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত করে খনন করলে অনেকাংশে ঢাকার পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতার সমাধান করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এটা করতেই ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলো দুই সিটির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকেও খালগুলো দুই সিটির কাছে হস্তান্তরের প্রচেষ্টা চলছে। এগুলো কার্যকরভাবে করা গেলে সমন্বয়হীনতার সমাধান ঘটবে। পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করলে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা সমস্যার অনেকাংশে সমাধান মিলবে।

তিনি বলেন, একসঙ্গে শহরের খাল, ডোবানালাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাধারগুলো রক্ষা ও উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কেননা এসব উৎসও বৃষ্টির পানি ধারণ করবে। তাহলে বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা হবে না। এজন্য টেকসই সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। ইতোমধ্যে সে লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ