সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

মধ্যরাত থেকে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ

রিপোটারের নাম / ৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

বরিশাল প্রতিনিধি মে ১৯,

বরিশাল : সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষণে পটুয়াখালীতে সমুদ্রে মাছ ধরা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) মধ্যরাত থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা, মার্চ-এপ্রিলের দুই মাসের অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে বছরে ১৪৭ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করতে হয় তাঁদের। এমনিতেই করোনাকালে জেলেদের রোজগার-ব্যবসায় টান পড়ায় তাঁরা ঋণ আর ধারদেনায় জর্জরিত। এরপর আবার সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কীভাবে পরিবার চলবে, এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞাকালে খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল পেলেও তা অপ্রতুল বলে দাবি করেন জেলেরা।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, সরকার এই নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়। গত বছর জেলেদের জন্য ১৬ হাজার ৭২১ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় উপকূলের ১৪ জেলার ৬৬টি উপজেলায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫টি জেলে পরিবার ৫৬ কেজি করে চাল পেয়েছিল।

ইতোমধ্যে অধিকাংশ ট্রলার মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে আগত জেলেদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। ঋণের বোঝা ও পরিবারের খরচ মেটানো শঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেক জেলে।

পটুয়াখালীর সাত ভাই ফিসের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, আলীপুর-মহিপুরে পটুয়াখালী সবচেয়ে বড় দুটি মৎস্য বন্দর রয়েছে। এখান থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ চালান হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা, বৈরি আবহাওয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সব মিলিয়ে এ পেশা এখন হুমকির মুখে।

বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি করে আসছি। গরিব জেলেরা সাগরে নামতে না পারলে খাবেন কী? তাই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে অনেক জেলে জেল-জরিমানার ভয় উপেক্ষা করেন। তবে বেশির ভাগ জেলে ও ট্রলারমালিক আইন মেনে সাগরে যান না।’

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলার ২৫ হাজারের অধিক জেলেকে দুই ধাপে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সাগরে কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ