বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০১:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ভূঁইয়া ৭৪তম জন্মদিন পালন

রিপোটারের নাম / ৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

 

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন মাস্টারের ৭৪ তম জন্মদিনে সহযোদ্ধা আত্মীয়সজন বন্ধু বান্ধব শুভাকাঙ্ক্ষীদের হাজারো ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন কালীগঞ্জ উপজেলা তুমলিয়া ইউনিয়নের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রেজাউল করিম( হুমায়ুন মাষ্টার)।

তিনি ১৯৪৯ সালে এই দিনে কালীগঞ্জে তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোম গ্রামের ঐতিহাসিক ভুইয়া বাড়ির মরহুম-বীর পিতা আজিজুর রহমান ভুইয়া ও বীর মাতা-উম্মে কুলসুম দম্পত্তির ঘরে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হুমায়ুন মাষ্টার, তার দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্টতম।

সংতক্ষপ্ত ইতিহাসে জানা যায়, তিনি ১৯৬৬সনে জগন্নাথ কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং ছয় দফা আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে রাজপথ দখলের জন্য আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৬৮ সনে আয়ুব খান আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা হুলিয়া থাকায় কলেজ পরিবর্তন করে নরসিংদী সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
উনার রাজনৈতিক জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১দফা আন্দোলনের সাবেক রুপগঞ্জ থানার যুগ্ম আহব্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে মহানগর ছাত্র লীগের সদস্য থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী সার্জেন্ট জহুর দিবসে ইকবাল হলের মাঠে প্রেরেডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রুপগঞ্জে থানা আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রচারে সাবেক সাংসদ কাজী সাহাবুদ্দিন সাহেবের সঙ্গে কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জনসভায় ছাত্রলীগের মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
১৯৭১সালে ২৫শে মার্চ এর পর রূপগঞ্জ থানায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।সে মাসেই মুক্তিযুদ্ধের জন্যে কে,বি,এম মফিজুর রহমান খানের নির্দেশনায় ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আখতারউজ্জান সাহেবের সঙ্গে ভারতের উত্তর প্রদেশে টান্ডুয় মুজিব বাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালের আগষ্ট হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুজিব বাহিনির রূপগঞ্জ থানায় গ্রুপ কমান্ডার হিসাবে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭২ সাল ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন দিবসে বিমান বন্দরে মিছিল সহ যোগদান করেন। একই সালে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার উপস্থিতে অস্ত্র সমর্পন করেন।

তিনি ১৯৭৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে রূপগঞ্জ থানায় কৃষকলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে ১৫আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শাহাদাৎ বরনের পর তৎকালীন সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান ও এরশাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক হামলা,মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ ৮ বৎসর আত্ম গোপনে থাকেন এই মহান মুক্তিযোদ্ধা।

পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাতীয় কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ১৯৮৬ সালে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬/ ২০০৪ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, ২০১২ সালে গাজীপুর জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, কালিগঞ্জে ১৫ দলীয় জোটের কর্মসুচি পালন করতে গিয়ে কুখ্যাত আজম ও তার বাহিনীর হাতে শহীদ হন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক জাতীয় বীর ভাওয়ালরত্ন অ্যাডভোকেট ময়েজউদ্দিন সাহেব।
সেই হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হুমায়ুন মাষ্টার ।
কর্মজীবনে তিনি কালীগঞ্জের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহন করেন।তার স্রী মুনসুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান।
সংসার জীবনে তার এক ছেলে এ্যাডভোকেট রায়হান কবির,ও এক মেয়ে।
তাহার ৭৪ তম জন্মদিনে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাহার ও পরিবারের সবার মঙ্গল কমনায় দোয়া চেয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ