সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

একজন অভিনেতা, একজন রচয়ীতা, একজন নাট্যকার, থিয়েটার মঞ্চের শিল্পী অভিনেতা’র সাথে একান্ত সাক্ষাতকার

রিপোটারের নাম / ২১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ জুন, ২০২১

বিন্দু সুমন রোজারিও’র ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি একজন অভিনেতা শিল্পী । কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। স্ত্রী ,৩টি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান নিয়ে গোছালো সংসার রয়েছে। প্রথমত একটি কিন্ডারগার্টেন মহামারী করোনার কারনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে দেয়ালঘেড়া বাড়িতে একটি সুটিং স্পট রয়েছে।
প্রশ্ন: জঙ্গল ক্যাম্প আপনার লেখা একটি অসাধারণ নাটক। এ নাটকটি লেখার গল্প বলুন?

উত্তর: “জঙ্গল ক্যাম্প” আসলে নাটক নয়, এটি একটি টেলিফিল্ম। এটি ডাস্ট মডিয়িা বাংলাদেশ এর প্রথম প্রোডাকশন। গল্পটি ছিল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হওয়ার মত। প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রসিদ স্ক্রিপ্ট পরে এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রথম প্রোডাকশন বলেই আমি বড় ঝুঁকিতে যাইনি। গল্পটা ছিল ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার সহ্নিকটে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা ও বাঙ্গালী অভিবাসন প্রত্যাশীদের মর্মান্তিক কাহিনী। এতে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ঘরছাড়া মানুষের দেশপ্রেম ও মানবিক আবেদন মর্মস্পর্শী হয়ে আঘাত করেছে দর্শক হৃদয়কে। পরবর্তীতে এটি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ব্যানারে চ্যানেল আইতে সম্প্রচার হয়েছে। তার পূবের্ ঢাকাস্থ মনিপুরিপাড়া কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে এর একটি প্রিমিয়ার শো হয়েছিল যেখানে উপস্থিত ছিলেন সেসময়কার তথ্যমন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এ্যাডভোকেট প্রমোদ মানখিন এমপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিবর্গ। “জঙ্গল ক্যাম্প” পরিচালনা করেছেন হিমেল ইসহাক। এতে অভিনয় করেছেন প্রাণ রায়, মামুনুর রশিদ, ড. ইনামুল হক, নাবিলা ইসলাম, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, সুজাত শিমুল, সাজ্জাদ সাজু, কাজী দেলোয়ার হেমন্তসহ প্রায় পঞ্চাশ জন নাট্যশিল্পী। আমি নিজেও একটি পার্শ চরিত্রে অভিনয় করেছি।

প্রশ্ন: সম্প্রতি চলচ্চিত্রের গল্প লিখছেন, এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর: চলচ্চিত্রের জন্য মুক্তিযদ্ধ ভিত্তীক একটি গল্প “নয়নতারা” লিখেছি আরও সাত আট বছর আগে। একুশে উল্লাস, একজন নবাগত চলচ্চিত্র পরিচালক, ইতিমধ্যে এটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে কিছু বিষয়ে সমন্বয়হীনতার কারনে এটি এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি গল্প লিখছি মুক্তি যুদ্ধের উপরই। এগুলো আমার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডাস্ট মিডিয়া বাংলাদেশ থেকেই নির্মাণ হবে।

প্রশ্ন: বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্র অন্য দেশের চলচ্চিত্রকে অনুসরন করে নির্মিত হচ্ছে, এমন কেন হয়?

উত্তর: এটা প্রায় সকল দেশেই হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রচুর ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমা আছে যেগুলো অন্যদেশ বা অন্যদের থেকে ধার করে বা অনুসরন বা অনুকরন করে নির্মিত হয়েছে। আমাদের দেশেও হয়। এটা দোষের কিছু নয়। বড়ং এখানে অত্যাবশ্যকীয় চ্যালেন্স ফেইস করতে হয় অনেক যা আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি আগেও ছিল। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র যা ভারতীয় চলচ্চিত্র “কেয়ামত সে কেয়ামত” এর পূণঃনির্মাণ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সোহানুর রহমান সোহান। সৃষ্টির জন্যই সৃষ্টিকে অনুকরন বা অনুসরন করা হয় বলে আমি মনে করি। তবে আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে বা অস্বীকার করে কিছু করলে তার জবাবদিহীতা প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ মঞ্চ নাটকরে খবর কি? আপনি কোন নাট্যদলের সদস্য?

উত্তরঃ আসলে অভিনয়ের মুল জায়গাটা হলো মঞ্চ। একারনে টিভি নাটক বা সিনেমায় বিখ্যাত অভিনয় শিল্পীগণ যারা মঞ্চ থেকে এসেছেন তাঁরা মঞ্চকে কখনোই ভুলতে পারেন না। দিন দিন মঞ্চে দর্শক কমছে, কিন্তু মঞ্চশিল্পীগণ মঞ্চ ছাড়েননি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কেন্দ্রীক মঞ্চনাটকগুলো অত্যন্ত উচ্চ মান সম্পন্ন। বাংলাদেশে অনেক নাটকের দল রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সে অনুপাতে দর্শক নেই। তবে অন্যভাবে আবার প্রচুর দর্শক কিন্তু আছে। মঞ্চ নাটকের সাথে যারা জড়িত তারাই আসলে মঞ্চ নাটকের মুল দর্শক। সেদিক থেকে যেহেতু প্রচুর নাটকের দল রয়েছে সেহেতু প্রচুর দর্শকও আছে বলা যায়। মঞ্চ আছে বলেই দক্ষ অভিনেতার জন্ম হচ্ছে এবং নান্দনিক সব নাটক সিনেমা আমরা দেখতে পাই।
নাট্যদল “সেইজ ওয়ান ঢাকা” এর সাথে আমেরিকান লেখক নীল সাইমনের “দি ওড কাপল” নাটকে বর্তমানে মঞ্চে অভিনয় করছি। “দি ওড কাপল” বাংলায় রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যদল “স্টেইজ ওয়ান ঢাকা” এর কর্ণধার ডোমিনিক গোমেজ। তবে বর্তমান করোনাকালীন দুর্যোগে মঞ্চের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমাদের অনুশীলন অব্যাহত আছে।

আপনার শুটিং হাউজের খবর কি?
হলি নেইচ্যার শুটং স্পট – আমার শুটিং স্পটের নাম। এটি গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দাহিন্দী গ্রামে অবস্থিত। করোনার এই দুঃসময়ে শুটিং কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধী মেনে সীমিত বা মাঝারী পর্যায়ে অব্যাহত ছিল। সেকারণে এখন পর্যন্ত শুটিং স্পটের কার্যক্রম মোটামোটি ভালই চলছে বলা যায়।

প্রশ্নঃ জীবনের শেষ ইচ্ছে কি?
উত্তরঃ কার্যত এবং সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দেখে যাওয়া।

প্রশ্নঃ দর্শক ভালোবাসা কেমন পান?
উত্তরঃ অনেকে ভালোবাসেন, অনেকে অনেক ভালোবাসেন। তবে সংখ্যা খুব বেশী নয়।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ